বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
জেলা প্রতিনিধী
চারদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌরুটে ফেরি চলাচল সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা।
তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর স্রোত কিছুটা কমে আসায় ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বিপৎসীমার ওপরে যাওয়ায় বাঁধের ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিন ফুট করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়। ফলে কর্ণফুলী নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৬টি জলকপাট আড়াই ফুট খুলে প্রতি সেকেন্ডে ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। হ্রদের পানির স্তর রয়েছে ১০৭.৬ ফুট মিন সি লেভেল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে প্রতিদিন ৩২ হাজার কিউসেক পানি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (১১ জুলাই) সকালে চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কর্ণফুলীর দুই তীরে হালকা ও মাঝারি যানবাহনের দীর্ঘ সারি, কেউ ফেরিতে উঠছে, কেউ অপেক্ষায়। ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলা, বান্দরবান জেলা ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফেরি পার হওয়া চালকরা বলেন, পানি স্রোতের কারণে গত চারদিন ফেরি বন্ধ থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বাসচালক জামাল হোসেন, ট্রাকচালক জনি সূত্রধর, সিএনজি চালক করিম ও জনি মারমা, জিপচালক মো. আলম জানান, ফেরি চালু হওয়ায় অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি। আমাদের নিয়মিত যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন এখন স্বাভাবিক হবে।
কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত বলেন, দীর্ঘ ৪ দিন পর ফেরি চালু হওয়ায় পুরো অঞ্চলের জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। ফেরিঘাট এলাকা আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply