বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
দেশে গণপিটুনিতে হত্যা, শিশু নির্যাতন, কারা হেফাজতে মৃত্যু এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)।
সংগঠনটি বলেছে, ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘মব জাস্টিস’ কোনো অবস্থাতেই আদালতের বিচারব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না। এসব ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত ৪ থেকে ১০ অক্টোবরের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বিএইচআরএফের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। নোয়াখালীতে ৪৩ বছর বয়সী এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শরীয়তপুরে বস্তাবন্দি অবস্থায় তিন বছর বয়সী এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যা এবং রাজবাড়ী ও রাজশাহীতে শিশু নির্যাতনের চেষ্টার খবরও উঠে এসেছে পর্যবেক্ষণে।
বিএইচআরএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ২৩৬টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৭৯টি। একই মাসে গণপিটুনিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কারা হেফাজতে মারা গেছেন ২১ জন বন্দী।
বিবৃতিতে বিএইচআরএফের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব জাস্টিস’ কোনো অবস্থাতেই আদালতের বিচারব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না। কোনো অপরাধের সন্দেহ থাকলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করাই সাংবিধানিক নিয়ম। গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যা করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি আইনের শাসনকে সম্পূর্ণভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়।
সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, কারা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা এবং নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রকে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে আসে।
বিবৃতিতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।