শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার প্রতিবাদে ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া ছয় দফার প্রতি সংহতি জানিয়ে মশাল মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা এর কারণ উদঘাটন করে সংশ্লিষ্ট দোষীদের বিচারের দাবি করেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে “নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে মিছিলটি বের হয়ে বটতলায় এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে তা শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের, সেনা ঘাটি শহরে, শিশুরা কেনো কবরে; মাইলস্টোনে লাশ কেনো, ইউনুস সরকার জবাব দে, বিমানবাহিনী জবাব দে; জবাব তোমায় দিতেই হবে , নইলে গদী ছাড়তে হবে; রাজাকারের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান, ভারতীয় দালালেরা হুশিয়ার সাবধান ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় তারা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয় বরং একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা ও অবহেলার ফল। তারা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সেনা-পুলিশি নিপীড়নের অবসান ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাইজা মেহজাবিন প্রিয়ন্তী বলেন, ‘আমরা এক মর্মান্তিক সময় পার করছি। যে শিশুদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখার কথা, আজ তাদের নিথর দেহ আমাদের দেখতে হচ্ছে। তাদের টিফিনবক্স ফিরেছে, কিন্তু তারা ফিরেনি। এটা দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। রানা প্লাজা, বেইলি রোড প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় অবহেলা। আজও সেই নির্মমতা থামেনি। এখনও নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা পর্যন্ত জানা যায়নি। জুলাই এখনো শেষ হয়নি। প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সংগ্রাম চলবে।’ এছাড়াও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবী বলেন, ‘গতকাল উত্তরায় যে ঘটনা আমাদের দেখতে হয়েছে এর চেয়ে দুঃখের, ট্রমাটিক আর কিছু হতে পারেনা। ক্লাস থ্রি, ফোরের বাচ্চারা পুড়ে একটার সাথে আরেকটা গলে লেগে আছে। আমার সবচেয়ে অবাক লাগে, এমন একটা ঘটনার পর একজন দেশনেতা ভিডিও বার্তা দেয়, কিছু ত্রাণ সাহায্য চায়। তার বোঝা উচিত এরকম একটা ঘটনার এ ধরনের রেসপন্সে আমরা মর্মাহত। এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
Leave a Reply