বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র হয়ে রেলপথে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে চোরাচালানের নতুন কৌশলের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযানে সোয়া কোটি টাকার পণ্য জব্দ।
পণ্যগুলোর মধ্যে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও মদ জাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক প্রেস বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিআইআইডি।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, অভিযানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওষুধ আনা এবং বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের ডাক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র হয়ে রেলপথে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) পণ্য পাঠানোর পরিকল্পনার তথ্য পায়। গত ১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ইটি-৬৮০ ফ্লাইটে আসা যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।
সিআইআইডি বলছে, ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত আমদানি ও পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধ নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন না করা হলে এর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, গত ১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। অধিদপ্তরের ভাষ্য, পণ্যগুলো আকাশপথে দেশে আসার পর বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র এবং কমলাপুরের আরএমএস কেন্দ্র হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় ডাক ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্য কৌশলটি সামনে এসেছে।
প্রেস বিবৃতিতে আরও জানায়, ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ জাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ারসহ বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ ও পরিত্যক্ত কার্টন তল্লাশি করে আরও ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি প্রসাধনসামগ্রী এবং ১৮ দশমিক ১৮ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়।
সিআইআইডির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দুই দিনে মোট ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, বিমানবন্দরে ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৬৮ কেজি অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী, ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ৩২টি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১৭ লিটার মদজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কমলাপুরে জব্দ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস গৌরি ক্রিম। সব মিলিয়ে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।