বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

‘বাড়িওয়ালার খামখেয়ালিপনায়’ পুড়ে মরল এক পরিবার

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসায় ‘জমে থাকা গ্যাসের আগুনে’ দগ্ধ হয়ে বাবা-মায়ের পর প্রাণ গেল শিশু রাফিয়ারও (৪)। শনিবার ভোররাতে জাতীয় বার্ন ইউনিটে মারা যায় শিশুটি। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে মারা যান বাবা মো. রিপন মিয়া (৪০) ও মা ইতি বেগম (৩০)। রাতে মশার কয়েল ধরানোর সময় জমে থাকা গ্যাস থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। চোখের সামনে তরতাজা তিন প্রাণের এমন বিদায় মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরা। স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজনেরা। তারা বলছেন, ছয়তলা ভবনের নিচতলার ওই বাসায় বাথরুমে ম্যানহোলের মুখ ছিল, সেখানে গ্যাস জমে থাকতো। তারা ওই বাসায় উঠার পর থেকেই গ্যাস জমে থাকার বিষয়টি বাড়ির মালিককে অভিযোগ করে আসছিলেন। কিন্তু বাড়ির মালিক তাদের এই অসুবিধার কথায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তার খামখেয়ালিপনায়ই একে একে প্রাণ গেল পরিবারের তিন সদস্যের। মৃত রিপন মিয়ার ভাই বলেন, গ্যাস জমে থাকার কথা আগে অনেকবার বলা হয়েছিল। তবে বাড়ির মালিক এটা ঠিক করে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে যাত্রবাড়ী থানার ওসির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি বাড়ির মালিককে নিয়ে আজ (শনিবার) আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়েছেন। তবে আমরা মামলা করব কিনা- তা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।  এ বিষয়ে জানতে যাত্রবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদারের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ওই বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সাত্তার পাটোয়ারী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে শনিবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় শুনেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বুধবার যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের ওই বাড়ির নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাত একটার দিকে মশার কয়েল ধরানোর সময় জমে থাকা গ্যাসের আগুনে পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হন। পরে রাত ২টায় তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মা ইতি বেগম মারা যান, এরপর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বাবা রিপন মিয়াও মারা যান। পরে শনিবার দিবাগত ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে মারা যায় শিশু রাফিয়া।  তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, শিশু রাফিয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় বাবা রিপন মিয়ার শরীরের ৭০ শতাংশ ও মা ইতি বেগমের ৪৫ শতাংশ পুড়েছিল।  জানা গেছে, নিহত রিপনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকায়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন। প্রায় ৬ মাস আগে ওই বাসাটি তারা ভাড়া নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD