বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

ফরিদপুরের চারটি আসনে ২৮ জন প্রার্থীর ১৯ জনই হারালেন জামানত

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ১৯ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৬৮ ভাগ (৬৭.৮৫%) প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে।

গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও ১৯৭২)–এর আর্টিকেল ৪৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পান, তাহলে তার জমা দেওয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, যা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৮টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৫টি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে জামানত রক্ষা পান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। এ আসনে বাকি ছয়জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

এ আসনে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাশার খান (ফুটবল) ৩৪ হাজার ৩৮৭ ভোট, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস (রকেট) ৭৮৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম কবির মিয়া (মোটরসাইকেল) ২ হাজার ১৫৯ ভোট, স্বতন্ত্র মো. হাসিবুল রহমান (হরিণ) ৪৫৫ ভোট, স্বতন্ত্র শেখ আব্দুর রহমান জিকো (উট) ৮৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ খান (লাঙ্গল) ৫০৬ ভোট।

নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। এর মধ্যে চারজনের জামানত জব্দ হয়েছে। এ আসনে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯১৬টি। জামানত রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৮৬৫টি ভোট। এ আসনে বিজয়ী প্রার্থী শামা ওবায়েদ ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী বাদে বাকি চার প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে।

জামানত জব্দ হওয়া প্রার্থীরা হলেন—ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আকরামুজ্জামান (আপেল) ৬১৭ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের ফারুখ ফকির (ট্রাক) ৬৭৫ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. নাজমুল হাসান (ডাব) ২৫৭ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ মো. জামাল উদ্দিন (হাতপাখা) ২ হাজার ৩৬৮ ভোট।

সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৩ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৩টি। জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৮৯৩টি ভোট। এ আসনে বিজয়ী প্রার্থী নায়াব ইউসুফ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুদ তাওয়াব ছাড়া বাকি চার প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে।

জামানত জব্দ হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)–এর আরিফা আক্তার বেবি (তারা) ২৫১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে এম ছরোয়ার (হাতপাখা) ৪ হাজার ২২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (হরিণ) ১ হাজার ২৫৩ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (কাস্তে) ৯৫৭ ভোট।

ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২টি। জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ৩৪ হাজার ৩৭৪টি ভোট। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ (ফুটবল)–এর জামানত রক্ষা পেয়েছে।

জামানত জব্দ হয়েছে বাকি পাঁচ প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান (কাস্তে) ৭১৪ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান (রিকশা) ১ হাজার ১১৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মাদ মজিবুর হোসাইন (ঘোড়া) ১ হাজার ৭০৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসাহাক চৌকদার (হাতপাখা) ১১ হাজার ৪৯৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির রায়হান জামিল (লাঙ্গল) ৫৫০ ভোট।

জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ফরিদপুরের চারটি আসনের ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে অনেক প্রার্থী খুব কম ভোট পেয়েছেন। যারা জামানত ফেরত পাবেন না। তাদের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD