বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মোহাম্মদপুরে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই : দুই আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে চট্টগ্রাম শিপইয়ার্ডে ৬০ কোটি টাকার আমদানি করা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশ ইন মেনে নেবে না : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাতের মধ্যে ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা বিদ্যুতের দাম কত বাড়ছে? জানা যাবে বুধবার একনজরে ফুটবল বিশ্বকাপের ৪৮ দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড দাম কমেছে এলপি গ্যাসের জটিল রোগে অনুদান ১ লাখ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : ডা. জাহিদ হোসেন চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যালয় ঘেরাও করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ এইচএসসি : সব কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকতে হবে

‎পাবনায় জমে উঠেছে পশুর হাট, মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

মাতৃভূমি সংবাদ 

জেলা প্রতিনিধি

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সপ্তাহখানেক বাদেই ঈদ। পশু কোরবানি দেবেন সামর্থ্যবানরা। পাবনার হাটগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসছে হাটগুলোতে। সব মিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতায় কানায় কানায় পূর্ণ পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে দর-কষাকষি ও বেচাকেনা। তবে হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবনা সদরের শেষ সীমানাবর্তী ইউনিয়ন চরতারাপুরের তারাবাড়িয়া মাদরাসা হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাটে প্রচুর গবাদিপশু উঠেছে। যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ী ও খামারিরা ট্রাক, মিনিট্রাক, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল নিয়ে এসেছেন। হাটে জায়গা না হওয়ায় রাস্তার উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে পশুর হাট বসেছে।

‎টেবুনিয়া থেকে গরু কিনতে এসেছেন মো. আমিরুল মোল্লা। তিনি বলেন, ৫ জন মিলে হাটে আসছি কোরবানির গরু কিনতে। বড় গরুর একটু দাম কম হলেও ছোট ও মাঝারি গরু ক্রয় করা সম্ভবই হচ্ছে না। বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছে। তবে হাটে যেহেতু আসছি গরু কিনেই বাড়ি ফিরব ইনশাআল্লাহ।

‎সুহানুর রহমান নামে এক স্কুলছাত্র বলেন, ঘণ্টা দুয়েক হলো হাটে আসছি। গরু দেখতেছি এখনো ভাগ্যে মেলাতে পারিনি। পছন্দমতো গরু কিনবো দামের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই৷ আল্লাহর খুশির জন্য পশু কোরবানি দেবো ইনশাআল্লাহ।

‎আতাইকুলা থেকে এসেছেন খামারি বিল্লাল হোসেন প্রামানিক। তিনি বলেন, আমি আজকের এই হাটে ১৫টি গরু নিয়ে আসছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি বিক্রি করেছি। বাকিটাও বিক্রি হয়ে যাবে। কয়েকটা বিক্রি না হলে আগামীকাল একদন্তের হাটে নেওয়া হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে যে গরুর খাদ্যের দাম, ৪০-৪৫ হাজার টাকা মণ গরু বিক্রি করতে পারলে অন্তত খরচটা উঠবে। ৩০ হাজারের কম বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। আগে যেই ভুসি ছিল ১৪-১৫শ টাকা করে। এখন সেই ভূষির দামই ২১-২২শ টাকা করে। এছাড়াও গরুর ওষুধও অনেক দামে কিনতে হয়। সব মিলিয়ে আমরা খামারিরা ভালো নেই। গোখাদ্যের দাম কমানোর দাবি করেন তিনি।

‎ঢাকা থেকে এসেছেন আফজাল হোসের নামে গরু ব্যাপারী। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই পাবনা থেকে গরু কিনে ঢাকার গাবতলি, আফতাবনগর, তিনশ ফিটসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করি। বড় ও মাঝারি মিলে অন্তত ৫০-৬০টি গরু কিনতে হবে। এছাড়াও বিশাল গরু পাইলেও সেটা কিছু শিল্পপতির অর্ডার আছে সেগুলো ক্রয় করতেছি।

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধ্যের মধ্যেই দাম রয়েছে। দাম অতিরিক্তও না আবার কমও না।

‎তারাবাড়িয়া মাদরাসা হাটের ইজারাদার ও হাট কমিটির সভাপতি রইজ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে এই হাটের জায়গা অনেক বাড়ানো হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত কোরবানি ক্রেতা ও গরু-ছাগল কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই বেচাকেনা হচ্ছে। অসুস্থ গরুকে চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম রয়েছে। জাল টাকা শনাক্ত করণেও টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত রেটে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।‎

‎পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা জেলাতে প্রচুর পরিমাণ গরু রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা চাহিদা মেটাতে পারবে। কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এ বছর খামারিরা দাম ভালো পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‎জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি পশুর চাহিদা রয়েছে।। এর বিপরীতে ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু ও ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭ টি ছাগল রয়েছে। সবমিলিয়ে চাহিদার দ্বিগুণ থাকা উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

‎পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, কোরবানির পশুর হাটে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ প্রতিটি হাটে পুলিশ মোতায়েন করেছে। নিয়মনীতি মেনে হাট পরিচালনা করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাটে নজরদারি রয়েছে। হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্য টিম রাখা হয়েছে।

‎পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পাবনাবাসীর কোরবানির ঈদ নির্বিঘ্নে করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাল নোট চিহ্নিত করতে মেশিন স্থাপন, হাট এবং মহাসড়কে পুলিশ টহল বাড়ানো, হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD