বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে যে অন্ধ সাহাবির জন্য

মাতৃভূমি সংবাদ 

রিপোর্টারঃ আলামিন

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি ছিলেন একজন অন্ধ সাহাবি। ইসলাম আগমনের প্রাথমিক যুগে তিনি মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণের কারণে তাকেও মক্কার কুরাইশদের উৎপীড়নের শিকার হতে হয়েছিলেন। সেসব জুলুমেও তার ইমান কখনো দুর্বল হয়ে পড়েনি।সাহাবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি এবং মুসয়াব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদিনায় হিজরত করেন।মদিনায় হিজরতের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন। বিলাল রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আজান দিতেন, আর ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দিতেন ইকামত। আবার কখনো উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আজান দিতেন, বিলাল রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইকামত দিতেন।হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর বাড়ি ছিল মসজিদ থেকে একটু দূরে। তিনি অন্ধ থাকার কারণে সবসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যেতে পারতেন না। আবার সবসময় সাহায্যকারীও  পেতেন না। এত অসুবিধা সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে থাকতে চেষ্টা করতেন।হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অন্ধ হলেও তিনি ছিলেন মহা সৌভাগ্যবান সাহাবিদের একজন। তার জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ১৬টি আয়াত নাজিল করেছেন।একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ গোত্রের কয়েকজন নেতাকে ইসলাম সম্পর্কে বলছিলেন। সে সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এসে হাজির হলেন। তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তার থেকে কিছু আমাকে শিখিয়ে দেন।’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু বিরক্ত বোধ করলেন। তবে তার কথায় কোনো গুরুত্ব না দিয়ে কুরাইশ নেতাদের সঙ্গেই কথা চালিয়ে গেলেন। কুরাইশ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই আল্লাহ ওহি নাজিল করলেন।আল কোরআনে আছে, ‘সে (মুহাম্মদ) ভ্রু কুঁচকে মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে এক অন্ধ এসেছিল। তুমি ওর সম্পর্কে কী জান? সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো বা উপদেশ নিত কিংবা উপদেশ থেকে উপকার পেত? যে নিজেকে বড় ভাবে, তার প্রতি বরং তোমার মনোযোগ! যদি সে নিজেকে পরিশুদ্ধ না করে, তবে তাতে তোমার কোনো দোষ হতো না। অথচ যে কিনা তোমার কাছে ছুটে এল, আর এল ভয়ে ভয়ে, তাকে তুমি অবজ্ঞা করলে! কক্ষনো (তুমি এমন করবে) না, এ এক উপদেশবাণী, যার ইচ্ছা এ গ্রহণ করবে। এ আছে মহান, উচ্চমর্যাদাশীল, পবিত্র কিতাবে. (যা) এমন লিপিকারের হাতে (লেখা) যে সম্মানিত ও পূতচরিত্র।’ (সুরা আবাসা, আয়াত: ১-১৬)ধর্ম নিয়ে জানার আগ্রহের কারণে আল্লাহ আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মর্যাদা দিয়ে কোরআনের আয়াত নাজিল করেছেন। এরপর থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এলে ডেকে কাছে বসাতেন, কুশল জিজ্ঞেস করতেন এবং কিছু প্রয়োজন থাকলে তা পূরণ করতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD