বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
অনলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে যে আগে অ্যাপে প্রবেশ করবেন, তিনি আগে টিকিট কিনতে পারবেন— এই ভিত্তিতেই টিকিট বিক্রি হয়। এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ের স্টেশনে (কমলাপুর) মহানগর এক্সপ্রেসের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনলাইনে টিকিট বিক্রি স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার পর সত্যিকার অর্থে আমলে নেওয়ার মতো অভিযোগ আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়নি। যেহেতু টিকিটের প্রতি আমাদের আগ্রহ ও আবেগ রয়েছে, আমরা যেকোনো মূল্যে একটি টিকিট পেতে চাই। যখন তা পাই না, অথচ জানতে পারি বাইরে কেউ একজন টিকিট পেয়েছেন, তখন আমাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। আমি বলছি না যে ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত। তবে পর্যায়ক্রমে ত্রুটিমুক্ত করার প্রচেষ্টা রয়েছে। আশা করি, আপনারা সহযোগিতা করলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট ব্যবস্থায় যিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট কাটতে চাইবেন, তিনি আগে টিকিট পাবেন— এটি প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।
‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ রেলওয়ের এই নীতি কথা ভুলে গিয়ে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, কালোবাজারি বলতে আমি যেটা বুঝি, তা হলো সঠিক পথে টিকিট না নিয়ে অন্যভাবে টিকিট সংগ্রহ করা, কারও যোগসাজশে টিকিট নিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্য বাজারে আনা। কিন্তু অনলাইনে কাউকে প্রবেশ করতে না দিলেও তিনি টিকিট কাটার পর সেটি কালোবাজারে বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আটকানো বেশ কঠিন। তারপরও এই প্রক্রিয়া যাতে বিস্তৃত না হয় এবং যারা এটি করেন, তাদের যাতে চিহ্নিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। অন্য কোনো সফটওয়্যারে এমন অপশন আনা যায় কি না, যাতে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, তা নিয়েও কাজ চলছে। তবে কোনো যাত্রী নিজের জন্য টিকিট কেটে পরে অন্যের কাছে হস্তান্তর করলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিকার অর্থেই কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে অনলাইনে টিকিট দিই, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও একই পদ্ধতিতে টিকিট দেওয়া হয়। অন্য দেশের সুবিধা হচ্ছে, তারা একজনের নামে টিকিট নিয়ে আরেকজনের কাছে হস্তান্তর করেন না। তারা নৈতিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল। টিকিট বিক্রি করে অবৈধ উপার্জন করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে নেই। আমরা জাতি হিসেবে এখনো অতটুকু উন্নত হতে পারিনি। আমাদের এ বিষয়ে উন্নত হতে হবে। যিনি যাত্রা করবেন না, তিনি টিকিট কাটবেন না। অথবা টিকিট কাটার পর ট্রেনে যেতে না পারলে সেটি অন্য জায়গায় হস্তান্তর করবেন না। এই সচেতনতা ও মানসিকতা তৈরি না হলে টিকিট কেটে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা রোধ করা কঠিন। আর সেটিকে আপনারা কালোবাজারি হিসেবে আখ্যা দিলে, তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।