বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে যুবক গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রামে ৪৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলায় একজনের যাবজ্জীবন খুলনায় একদিনে ডেঙ্গু ও সন্দেহজনক হামে ৮ জনের মৃত্যু দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা সরকারি দপ্তর তথ্য না দিলে তথ্য কমিশনে যাওয়ার পরামর্শ তথ্য উপদেষ্টার ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন সচিবালয়, ব্যাহত দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন: নিহত বেড়ে ২ ভোটের জন্য নয়, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতি করে বিএনপি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করার দাবি দোকান মালিক সমিতির

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে এক দিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির মতে, ব্যাংক টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক লেনদেনে বাধার মুখে পড়েন। একই সঙ্গে ঋণের সুদের বোঝা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায় বলে দাবি তাদের।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এতে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের জানমালের ক্ষতি রোধ করতে কোনোভাবেই দেশকে ছুটির ফাঁদে ফেলা যাবে না। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, থানা ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা বন্ধ রাখা যায় না। একইভাবে ব্যাংকও এক দিনের বেশি বন্ধ রাখা উচিত নয় বলে মনে করে সংগঠনটি।

সমিতির অভিযোগ, যেকোনো অজুহাত ও সুযোগ পেলেই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত এক দিন ছুটি দেওয়া হয়। কখনো বন্ধের দিন খোলা রেখে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও রোববার ব্যাংক বন্ধ রাখা হয়। এতে টানা দীর্ঘ ছুটির সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক একটি আর্থিক সেবামূলক খাত। সপ্তাহে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন পার্বণ এবং অন্যান্য সরকারি ছুটি মিলিয়ে বছরে ১২০ থেকে ১৩০ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকে। এর ফলে ব্যাংকিং লেনদেনে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হন।

সমিতির দাবি, সাধারণত ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে হয় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। কিন্তু দীর্ঘ ছুটির কারণে এই সুদের বোঝা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে ব্যবসার খরচ বাড়ে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

দোকান মালিক সমিতি আরও বলেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটন, জ্বালানি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েন। পাঁচ থেকে সাত দিনের ছুটিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘরে কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাখা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেছে সমিতি।

সংগঠনটির ভাষ্য, ব্যাংক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে হয়। এতে অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বাড়ে এবং জানমাল রক্ষার চিন্তায় দিনরাত কাটাতে হয়। দীর্ঘ ছুটির কারণে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলেও দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এসব কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

ব্যবসায়িক লেনদেন সচল রাখা, সুদের বাড়তি চাপ কমানো এবং ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি এক দিনে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD