বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

পাকিস্তানে গোপন কসাইখানা থেকে ৫০টি গাধা ও ১০০০ কেজি মাংস জব্দ

মাতৃভূমি সংবাদ 

আন্তজার্তিক ডেস্ক

পাকিস্তানে একটি গোপন কসাইখানায় অভিযান চালিয়েছে দেশটি খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ওই কসাইখানা থেকে ৫০টি গাধা ও ১০০০ কেজি গাধার মাংস জব্দ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার (২৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে তারনোল এলাকায় একটি অবৈধ কসাইখানায় অভিযান চালিয়ে ৫০টি গাধা ও ১০০০ কেজি গাধার মাংস জব্দ করেছে ইসলামাবাদ ফুড অথরিটি (আইএফএ)। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোপন ওই কসাইখানায় প্রচুর পরিমাণে প্যাকেটজাত মাংস ও জীবিত গাধা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছিল।আইএফএ পরিচালক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে একটি মামলার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ করা মাংস ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। আইএফএ’র উপপরিচালক ডা. তাহিরা সিদ্দিক নিশ্চিত করেছেন, মোট এক টন (১০০০ কেজি) গাধার মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় এক বিদেশিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এই মাংস আরও কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে সেটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে দেশটিতে গাধার সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৯ হাজার। বর্তমানে গাধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৪৭ হাজার, যা আগের বছর ছিল ৫৯ লাখ ৩৮ হাজার। দেশটিতে গাধার সংখ্যা বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে চীনের উচ্চ চাহিদা। সেখানে গাধার মাংস বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয় এবং গাধার চামড়া দিয়ে তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ই-জিয়াও। পূর্বে রপ্তানি প্রক্রিয়ার নানা জটিলতায় গাধার চামড়া ও মাংসের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও এখন প্রয়োজনীয় প্রটোকল সম্পন্ন হওয়ায় সেই প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কেটে গেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণী অধিকার সংগঠন ও পশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ই-জিয়াও তৈরির জন্য চীনের ব্যাপক চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাধা জবাই বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ‘দ্য ডাংকি স্যাংচুয়ারি’ জানায়, ই-জিয়াও শিল্পে বছরে গড়ে প্রায় ৫৯ লাখ গাধার চামড়া প্রয়োজন হয়, যা বিশ্বের গাধা জনগোষ্ঠীর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’ জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় শানডং প্রদেশে প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে ই-জিয়াও উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। দেশটির ই-জিয়াও উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এই প্রদেশে। এটি চীনের “জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে বিবেচিত এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD