শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
চাঁদা দাবি, বসতবাড়ি ভাঙচুর, দখলচেষ্টা ও একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব মিফতাহুল হক তানবীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মোহাম্মদ নুরুল্লাহ সবুজ নামের এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নুরুল্লাহ সবুজ। লিখিত বক্তব্যে তিনি নিজের ও পরিবারের ওপর ধারাবাহিক হামলা, চাঁদা দাবি এবং নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে নুরুল্লাহ সবুজ বলেন, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিফতাহুল হক তানবীর, তার বড় ভাই মিরাজুল হক সাব্বিরসহ কয়েকজন তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে থাকা টাকা লুট এবং তার বয়স্ক মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা করেন তিনি। তার দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত শেষে আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলাটি এখনো চলমান।
নুরুল্লাহ সবুজের অভিযোগ, মামলা করার পর তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩ এপ্রিল রাত ১টা ৪০ মিনিটে তানবীরের নেতৃত্বে এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী তার বাড়ির নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া এনসিপি নেতা জুবায়ের আরিফের তদবিরে উল্টো তাকে ও পরিবারের সদস্যদের আসামি করে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নুরুল্লাহ সবুজ। বিষয়টি জুবায়ের আরিফকে মোবাইল ফোনে জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি তার। বরং মামলার অভিযোগপত্র দ্রুত সম্পন্ন করতে থানায় তদবির করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন।
সর্বশেষ গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) মামলার ধার্য তারিখে আদালত প্রাঙ্গণে তার ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন নুরুল্লাহ সবুজ। তার দাবি, এ ঘটনায় জামিনে থাকা আসামিরা জড়িত। আদালতের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলাকারীদের চেহারা স্পষ্ট দেখা যাবে।
নুরুল্লাহ সবুজ আরও বলেন, মিফতাহুল হক তানবীর ও তার ভাই সাব্বিরের নেতৃত্বে প্রায়ই লোকজন নিয়ে তার বাড়ির সামনে মহড়া দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি নেতা মিফতাহুল হক তানবীর বলেন, ‘এটি পারিবারিক বিষয়। তিনি আমার সৎ মামাতো ভাই। বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে টানতে চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিজমা দখলের চেষ্টা করেছেন। আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোরও চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি একটি বাড়ির দেয়াল ভাঙার ঘটনায় করা মামলায়ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের সবার কাছে বিস্তারিত তুলে ধরব।’