মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

‘ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

মাতৃভূমি সংবাদ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধ সমাপ্তির প্রক্রিয়া থেমে থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করে ফের সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

গতকাল ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকের আগে ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের উদ্দেশে সতর্কবার্তা পোস্ট করেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “তাদের (ইরান) দ্রুত নড়াচড়া করতে হবে, নয়তো তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে রোববার যেদিন ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প, সেই একই দিন ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সংঘাত নিরসনে ইরান সর্বশেষ যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘আপোসের অভাবই’ ‘আলোচনায় অচলাবস্থা’র জন্য দায়ী।

এর আগে এপ্রিলের শুরুর দিকে একবার ইরানের ‘গোটা সভ্যতা’ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার সেই হুমকির কয়েক দিনের মধ্যেই, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

কিছুদিন আগে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, এবং ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুকে ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান, তবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই দাবি করেছেন, তাদের প্রস্তাব ছিল ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর মতে, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে লিখিত শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবিলম্বে অবসান ঘটানো, যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করা এবং ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।

এছাড়াও, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স রোববার জানিয়েছে যে, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।

জানা গেছে, এসব শর্তের মধ্যে একটি দাবি ছিল যে, ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখবে এবং তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।

শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব মেনে নেবেন – যা দুই দেশের মধ্যে একটি বড় মতবিরোধের বিষয় – এবং এটি পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি থেকে সরে আসার একটি ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD