বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিচার না হলে এ সরকারের পরিণতি হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে: মুহাম্মদ শাহজাহান ইয়েমেনে পেট্রোল পাম্পে সৌদির বিমান হামলায় ১২ জন নিহত ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সাক্ষাৎ দুই দিন বৃষ্টি হতে পারে ৮ বিভাগে, কমবে দিনের তাপমাত্রা এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির দাবি ক্যাবের দুই শয়তানের যে কম শয়তান তাকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর

মাতৃভূমি সংবাদ 

ধর্ম ডেস্ক

সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে এক ইমামের নেতৃত্বে জামাতে নামাজ আদায়ের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯২৬ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ পৃথক পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে মুসল্লিদের এক ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেন।

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বহু শতাব্দী ধরে চারটি পৃথক স্থানে নামাজ আদায় করা হতো। চার মাজহাবের অনুসারীরা নিজ নিজ ইমামের নেতৃত্বে পর্যায়ক্রমে নামাজ পড়তেন।

সাধারণত প্রথমে শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীরা নামাজ আদায় করতেন। এরপর হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাবের অনুসারীরা নামাজ পড়তেন। ফলে হারামে একই ওয়াক্তের নামাজ দিনে কয়েকবার আদায় করা হতো।

কয়েক শ বছর ধরে এই ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। হিজরি পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকের দিকে এর সূচনা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত বিভিন্ন শাসকের আমলে এই ব্যবস্থা চালু ছিল।

সে সময়ের পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের বিবরণে উঠে এসেছে, প্রত্যেক মাজহাবের অনুসারীরা নির্ধারিত স্থানে সমবেত হয়ে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করতেন।

১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাদশাহ আবদুল আজিজ এই প্রথা বন্ধের নির্দেশ দেন। হিজাজ ও নজদের আলেমদের সঙ্গে বৈঠকের পর সবাইকে একজন ইমামের নেতৃত্বে একসঙ্গে নামাজ আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্য দিয়ে পৃথক নামাজের স্থানগুলো বিলুপ্ত করা হয় এবং একই নামাজের জন্য বারবার জামাত আয়োজনের প্রথার অবসান ঘটে।

এরপর থেকে প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্য একটি জামাতই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মসজিদুল হারামে একই নামাজের জন্য একাধিক জামাত কিংবা পৃথক কোনো জামাতের ব্যবস্থা আর নেই।

একজন ইমাম একসঙ্গে সব মুসল্লিকে নিয়ে নামাজ আদায় করান। মুসল্লিরা একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন। একাধিক যোগ্য ইমাম পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও একই ওয়াক্তের নামাজে একটির বেশি জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

এই ব্যবস্থা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার সাহাবিদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামের প্রাথমিক যুগে একজন ইমামের পেছনে এক জামাতে নামাজ আদায় করা হতো।

১৯২৬ সালের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কয়েক শতাব্দীর বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে সেই প্রাথমিক ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

গত ১০০ বছর ধরে এই ব্যবস্থা অপরিবর্তিতভাবে চলে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসল্লি মসজিদুল হারামে একই জামাতে ঐক্যবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র মসজিদুল হারামে সৌদি প্রশাসনামলের প্রাথমিক দিকে নেওয়া সংস্কারগুলোর মধ্যে এই ঐক্যবদ্ধ জামাতের ব্যবস্থা অন্যতম স্থায়ী সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD