শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

ইরান অভিযানে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত!

মাতৃভূমি সংবাদ 

আন্তজার্তিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কইরান ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মার্কিন অস্ত্রাগারে টান পড়েছে। সিএনএন-এর সোমবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্রমাগত হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পেন্টাগন এখন এক ভয়াবহ সামরিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে ‘টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল’ এবং ‘এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর’-এর মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এই রিজার্ভ খালি হতে চলায় পরবর্তী ধাপের হামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence) অনেকটা দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ভেতরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা, ড্রোন তৈরির কেন্দ্র এবং তাদের নৌ-সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরান যুদ্ধের কারণেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়েছে তাদের বিখ্যাত ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সাথে গত চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য এই প্যাট্রিয়ট মিসাইল মজুতের একটি বড় অংশ ব্যয় করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট মিসাইলের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

অভিযানের দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের ১১টি নৌযানই ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া রোববার রাতে মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো ইরানের সুরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেনা ও ইরানের পাল্টা আঘাত

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানও চুপ করে বসে নেই। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, ইরানের প্রতিশোধমূলক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর এবং যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে দাবি করেছেন নায়েইনি। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। আমেরিকানদের জন্য এই হতাহতের খবর অস্বীকার বা গোপন করা স্বাভাবিক। তবে ইরানের গোয়েন্দা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য হতাহতের এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD