বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুত গোপন ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমে ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের পাঠানোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনসংক্রান্ত গণশুনানির আগে গত ২৬ অক্টোবর বিইআরসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব দাবি জানায় ক্যাব।
চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান উল্লেখ করেন, নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত না করে পুনরায় দাম ও চার্জ বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে ভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
পাইপলাইনের গ্যাসসুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি উল্লেখ করে ক্যাব বলেছে, খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর রান্নার জ্বালানিতে বাড়তি খরচ বহন করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য। এ অবস্থায় বিদ্যমান মূল্য আদেশ কার্যকর করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
আমদানিকারকদের ব্যয়বৃদ্ধির দাবি প্রকৃত লেনদেনের দলিল ও নিরীক্ষিত হিসাবের ভিত্তিতে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেই স্থানীয় পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যয় একই অনুপাতে বাড়ে না। তাই আমদানি মূল্যবৃদ্ধির যুক্তিতে সব পর্যায়ে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। একই খরচ একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা অদক্ষ পরিচালনার দায় ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না।
ক্যাবের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা; কৃত্রিম সংকট, মজুত গোপন, সরবরাহ সীমিত করা ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে দায়ীদের লাইসেন্স বাতিল করা।
এ ছাড়া নিরীক্ষিত হিসাব ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন না করা, অযৌক্তিক ব্যয় ও অতিরিক্ত মুনাফা মূল্যহার থেকে বাদ দেওয়া এবং আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ চার্জের পৃথক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ক্যাব। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় কমলে সেই সুবিধা সময়মতো ভোক্তাদের দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি এলপিজির পৃথক ব্যয় মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছ বরাদ্দ ও বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, রসিদ প্রদান এবং পরিবহন ও বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
অতিরিক্ত দাম, সিলিন্ডার না পাওয়া, কম ওজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা চালু এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে ক্যাব।
গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাব ও কমিশনের কারিগরি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বর্জন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যাও চেয়েছে ক্যাব। মূল্য ও চার্জ বাড়ানোর পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।