বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপির ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য কি না, এ জন্য আইজিপির ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তী সময়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ক্রসফায়ার করবেন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করবেন, তার বক্তব্য থেকে এমন ব্যাখ্যা কেউ কেউ করেছেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে পরিষ্কার করেছেন, কেন ও কী উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন। তিনি অবশ্যই এমনটি বোঝাতে চাননি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা কেটে যাওয়া উচিত। কারণ, আইজিপি এসব বক্তব্যের কোনোটিই নিজের অবস্থান হিসেবে ধরে রাখেননি, বরং সেখান থেকে সরে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বক্তব্য দেওয়ার পর আইজিপি যদি আর কোনো ব্যাখ্যা না দিতেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে যোগাযোগ হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থেকে কাজ করেছে বলে সামনে আসা তথ্যে জানা গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার পরিণতি সংশ্লিষ্টদের ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কেউ ভালোভাবে নেননি। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিছু মানুষের বিচার হওয়ার পর তাদের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বিচারগুলোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ পছন্দ করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে। যারা এ ধরনের কাজ করেন, তারা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হবেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য তারা মানুষের প্রশংসা বা সমর্থন পাবেন না।
চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে মৌলবাদী ও অতি ডানপন্থি উগ্রবাদীদের তৎপরতা এবং টঙ্গীতে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার যদি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারবে না, তাহলে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সরকার স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনার সময়ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এসব বিষয়কে বাংলাদেশ মেনে নিয়েছে, এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।