শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টর : ফয়সাল আহমেদ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গভীর শোকের আবহে আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসানের সাক্ষী হলো এই জানাজা, যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে।সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, বিশেষ করে সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—প্রায় সব জেলা থেকেই মানুষ দলে দলে এসে যোগ দেন জানাজায়। কেউ এসেছেন দলীয় কর্মী হিসেবে, কেউ বা এসেছেন একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে, আবার কেউ এসেছেন ইতিহাসের অংশ হতে।শোকের স্তব্ধতা, চোখে অশ্রু।জানাজাস্থলে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল গভীর শোক, অনেকের চোখে অশ্রু। “খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক”—এমন মন্তব্য শোনা যায় অনেকের কণ্ঠে। জানাজা শুরুর আগমুহূর্তে পুরো সংসদ ভবন এলাকা নীরবতায় ঢেকে যায়, যেন জাতি একসঙ্গে নিঃশ্বাস থামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের উপস্থিতি
জানাজায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানান এই প্রবীণ নেত্রীকে।
একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি
১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১—এই তিনটি সময়কালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর রাজনৈতিক জীবন যেমন ছিল সংগ্রামমুখর, তেমনি তাঁর বিদায়ও হয়ে উঠলো ইতিহাসের অংশ।জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকা ছেড়ে মানুষ ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে, কিন্তু শোকের ভার রয়ে যায় বাতাসে। আজ শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নয়—একটি সময়, একটি অধ্যায়, একটি রাজনৈতিক যুগকে শেষ বিদায় জানালো বাংলাদেশ।
Leave a Reply