বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
যদি গাজায় চলমান যুদ্ধটি বাকি সব যুদ্ধগুলোর মত হতো তাহলে এতদিনে হয়তো সেখানে অনেক কিছুর ক্ষেত্রে আলাদা চিত্র দেখা যেতো।সম্প্রতি সেখানে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। কিন্তু তখন হয়তো বহুদিন আগেই এই যুদ্ধবিরতি হতো।মৃতদের কবর দেয়া হয়ে যেত এবং ইসরায়েলকে হয়তো জাতিসংঘের সাথে তর্ক করতে হতো যে গাজার পুননির্মাণে ঠিক কী পরিমাণ সিমেন্টের দরকার হবে।কিন্তু এই যুদ্ধটা সেগুলোর মতো নয়।কারণ এখানে যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলছে শুধু সেটাই একমাত্র কারণ নয়।এখানে হত্যাযজ্ঞের শুরুটা করেছিল হামাস গত ৭ই অক্টোবর, বেশিরভাগ ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের উপর। তারপর ইসরায়েল পাল্টা আক্রমণ শুরু করে যাকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিহিত করেছেন ‘ভয়ংকর প্রতিশোধ’ হিসেবে, সেখানেও বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন।এই যুদ্ধটা অন্যগুলো থেকে ভিন্ন কারণ এটা এমন সময় হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগ করা ফল্ট লাইনে চিড় ধরেছে।গত দুই দশক ধরে এখানকার ভূ-রাজনীতির যে উত্তেজনাকর চিত্র, তার একদিকে ইরান এবং তার বন্ধু ও মিত্ররা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বন্ধু ও মিত্ররা।ইরানের এই নেটওয়ার্কের মূলে, যেটা কখনো পরিচিত ‘প্রতিরোধের জোট’ হিসেবে, সেই দলে রয়েছে লেবাননের হেজবুল্লাহ, সিরিয়ার আসাদ সরকার, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী যাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে ইরান। ইরানিরা গাজায় হামাস এবং ইসলামিক জিহাদকেও সমর্থন দিয়ে আসছে।একইসাথে ইরান এখন চীন এবং রাশিয়ারও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ইউক্রেনে রাশিয়া যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে ইরান সেটার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর চীন ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনে থাকে।গাজায় যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে এবং ইসরায়েল যত বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোক হত্যা করবে ও হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করবে, ততই এই দুই মিত্র গোষ্ঠীর কোন কোন সদস্যের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
Leave a Reply